একটা সময় ছিল, যখন পড়াশোনা মানেই ছিল কাঠের বেঞ্চ, চকের গন্ধ, আর টিচারের কণ্ঠে ভর করে শেখা। আবার হঠাৎ করেই সময় বদলে গেল, ক্লাসরুমের দরজা বন্ধ হলো, খুলে গেল জুমের স্ক্রিন।
এখন প্রশ্ন একটাই, ক্লাসরুমের বেঞ্চ নাকি জুমের স্ক্রিন, কোনটা সত্যিই সেরা?
ক্লাসরুমের বেঞ্চ শুধু বসার জায়গা নয়, এটা একটা অনুভূতি। বন্ধুর পাশে বসে ফিসফিস করা, স্যার/ম্যাডামের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করা, বোর্ডে লেখা দেখে শেখা এই অভিজ্ঞতাগুলো শেখাকে জীবন্ত করে তোলে। এখানে শেখা হয় শুধু বই থেকে নয়, মানুষ থেকে।
অন্যদিকে, জুমের স্ক্রিন এনে দিয়েছে এক নতুন স্বাধীনতা। ঘরে বসে পড়াশোনা, যাতায়াতের ঝামেলা নেই, রেকর্ড করা লেকচার বারবার দেখার সুযোগ এগুলো নিঃসন্দেহে আধুনিক শিক্ষার বড় সুবিধা। যারা দূরে থাকে, শারীরিকভাবে ক্লাসে আসতে পারে না, বা সময়ের সীমাবদ্ধতায় ভোগে তাদের জন্য জুম এক আশীর্বাদ।
তবে জুমের স্ক্রিনে একটা সমস্যা রয়েই যায়, ক্যামেরা অন থাকলেও মন অনেক সময় অফ হয়ে যায়। নেটওয়ার্কের সমস্যা, চারপাশের ডিসট্রাকশন, আর মানবিক সংযোগের ঘাটতি শেখাকে কিছুটা যান্ত্রিক করে তোলে।
তাহলে সেরা কোনটা? আসলে সেরা নির্ভর করে শেখার উদ্দেশ্যের উপর। যেখানে দরকার গভীর বোঝাপড়া, আলোচনা আর মানসিক সংযোগ, সেখানে ক্লাসরুমের বেঞ্চ অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আর যেখানে দরকার সময়ের নমনীয়তা, সহজ অ্যাক্সেস আর প্রযুক্তির সুবিধা, সেখানে জুমের স্ক্রিন নিঃসন্দেহে কার্যকর। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, ক্লাসরুম শেখায় মানুষ হতে, আর জুম শেখায় সুযোগকে কাজে লাগাতে। শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন এই দুটো একসাথে পথ চলে।
তাই প্রশ্নটা “কোনটা সেরা” নয়, বরং “কোনটা কখন প্রয়োজন।”
