বর্তমান সময়ে ব্যস্ত থাকাটাই যথেষ্ট নয় বরং প্রোডাকটিভ থাকাটাই হলো আসল বিষয়। অনেক সময় আমরা সারাদিন কাজ করেও মনে করি তেমন কিছুই করা হয়নি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে সঠিক পরিকল্পনার অভাব। তাই নিজের দক্ষতা বাড়াতে চাইলে শুধু ব্যস্ত থাকলেই চলবে না এর পাশাপাশি কার্যকর কৌশল অবলম্বন করলেই বড় পরিবর্তন দেখা দিবে।
তাই চলুন, কর্মক্ষেত্রে প্রোডাকটিভ থাকার দারুণ কার্যকর ৬টি উপায় সম্পর্কে জানা যাক।
১। লক্ষ্য নির্ধারণ করুন- প্রোডাকটিভ হওয়ার প্রথম ধাপ হলো পরিস্কার লক্ষ্য নির্ধারণ করা। প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার পর সারাদিন আপনার কী কী কাজ করতে হবে তার একটি “to-do” লিস্ট তৈরি করা। এবং সেটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাজান। এতে করে আপনার কোন কাজটি আগে করতে হবে আর কোনটি পরে তার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে এবং আর সময় অপচয় হবে না।
২। টাইম ম্যানেজমেন্ট- প্রথম ধাপটি শেষ হলে, এখন আপনার কাজ হচ্ছে “to-do” লিস্টে করা সব কাজগুলো সময় মতো শেষ করা। নিজেকে একটা স্ট্রিক্ট টাইম ম্যানেজেন্টের মধ্যে রাখা। মাঝেমধ্যে ৫-১০ মিনিটের বিরতি নিন। এতে আপনার কাজে মনোযোগ আরও বাড়বে।
৩। মাল্টিটাসকিং না করা- মাল্টিটাস্ক করতে পারা একটি খুবই ভালো জিনিস তবে অনেক সময় এটি আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে। অনেক সময় আপনার কাজটি খারাপও করে দিতে পারে। তাই অফিসে একটি কাজ শেষ করে অন্য একটি করুন। এতে সময়ও কম লাগবে আর কাজটিও সুন্দর মতো শেষ হবে।
৪। ডিসট্রাকশন থেকে দূরে থাকা- বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা অনেকটাই অসম্ভব একটি ব্যাপার। ফোনের একটি নোটিফিকেশনের শব্দ আমাদের মনোযোগ ভেঙ্গে দিতে পারে। তাই কাজের সময় অবশ্যই ফোনের নোটিফিকেশন অফ করে রাখতে হবে এর পাশাপাশি কলিগদের সাথে অপ্রয়োজনীয় আলাপ করা থেকে দূরে থাকতে হবে।
৫। নিজেকে মোটিভেটেড রাখুন- কাজ করতে গিয়ে অনেক সময়ই মোটিভেশন হারিয়ে যায়। কাজ করার আগ্রহ কমে যায় যা আমাদের প্রোডাক্টিভিটি ও পারফরমেন্স লেভেলকে নিচে নামিয়ে আনে। তাই নিজেকে মোটিভেটেড রাখার জন্য সব সময় নিজের ছোট ছোট অর্জনকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাই নিজের কাজের অগ্রগতি দেখে নিজেকে পুরস্কৃত করুন।
৬। নিজের মানসিক যত্ন নিন- প্রোডাকটিভ থাকার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুস্থ থাকা। বিশেষ করে মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকা। আমরা অনেক সময়ই নিজেদের মানসিক অবস্থা নিয়ে ভাবিনা। যাতে করে আমাদের কাজে মন বসে না বা কাজ করার ইচ্ছাও থাকে না। তাই সবার আগে নিজের মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে এতে কাজেও মন বসবে আর ভালো পরিবর্তনও চোখে পড়বে।
সবশেষে, প্রোডাক্টিভিটি মানে বেশি বেশি ব্যস্ত থাকাটা নয় বরং স্মার্টভাবে কাজ করা। তাই আপনিও যদি আপনার কর্মক্ষেত্রে প্রোডাকটিভ থাকতে চান তাহলে আপনিও এই ৬ টি উপায় আপনার জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
