কন্টেন্ট রাইটিং কি?
এই যুগে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না এমন মানুষ কোথাও দেখবেন না। প্রতিনিয়তই আপনি ইন্টারনেটে ব্লগ, ফেসবুক পোস্ট, ওয়েবসাইটের লেখা, পণ্যের বর্ণনা বা ইমেইল কিছু না কিছু পেয়েছেন। আপনি এই অসংখ্য লেখা পড়েছেন অনেকবার, কিন্তু কখনও ভেবেছেন এই লেখাগুলো কে তৈরি করে অথবা কারা এই সকল চিত্তাকর্ষক লিখনের জন্য দায়ী?
চলুন অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখা যাক। আপনি জীবনে একবার হলেও বই পড়েছেন, না পড়লেও পাঠ্যবই তো পড়েছেন। সেগুলো কারা লিখতো? অবশ্যই লেখক। তাই না? ঠিক তেমনি বর্তমান ডিজিটাল যুগে এভাবেই ডিজিটাল প্লাটফর্মে যত লিখন দেখতে পান সেগুলো হলো কন্টেন্ট রাইটিং। এটি হলো ডিজিটাল প্লাটফর্মে লিখিত এমন বিষয়বস্তু যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, তথ্যবহুল, আকর্ষণীয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। এটির মূল উদ্দেশ্য পাঠকগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান। এই তথ্য হতে পারে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা, শিক্ষণীয় বিষয়, সচেতনতা, ক্রয়-বিক্রয়, মতামত প্রকাশ, বিনোদন, কমিউনিটি গঠন, সমস্যা সমাধান ইত্যাদি।
তবে একটি শর্ত- তথ্যের উপস্থাপনা হতে হবে সুস্পষ্ট, সুশৃঙ্খল ও চিত্তাকর্ষক। আর যারা লেখালিখি করে বা করছে তাদের বলা হয় কন্টেন্ট রাইটার। এটি শুধু একটি দক্ষতা নয়, এটি একটি সম্ভাবনাময় পেশাও বটে। ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রায় সবাই এখন অনলাইনে নিজেদের উপস্থিতি শক্তিশালী করে এই মানসম্মত কন্টেন্টের মাধ্যমে। তাই কন্টেন্ট রাইটিং শিখে আপনি চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা নিজের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তিন ক্ষেত্রেই সফল হতে পারবেন।
আপনার সাথে আমি আজ শেয়ার করবো এই ডিজিটাল যুগের মোড় ঘোরানো এই বিপ্লবী সৃষ্টির বিস্তারিত। চলুন পড়া যাক এর ধরন, এটি কীভাবে শিখবেন, একটি ভালো কন্টেন্ট কীভাবে লিখবেন, বাংলা কন্টেন্ট লিখনের সুযোগ, ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে এটি কীভাবে জড়িত এবং কীভাবে এটি আপনার আয়ের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

কন্টেন্ট রাইটিং উদাহরণ
ছোট উদাহরণ দেওয়া যাক। ভাবুন আপনি অনলাইনে একটি ইংরেজি কোর্স বিক্রি করতে চান। আপনি যদি লিখেন: “শীঘ্রই আমাদের কোর্স শুরু হতে যাচ্ছে। এটি ভালো কোর্সটির এখন অনেক ডিমান্ড। আপনারা ইনরোল করে ফেলুন” ক্রেতারা আপনাকে সহজে বিশ্বাস করবে না। তারা নিজেকে প্রশ্ন করবে: “কেন কিনবো? এটায় আমার লাভ কী?” এভাবে ভাবতে ভাবতে তার মনোযোগ অন্য দিকে সরে যাবে।
কিন্তু আপনি যদি লিখেন: “আপনি কী ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব অনুভব করেন? সঠিক অনুশীলন এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের নির্দেশনায় আপনি অল্প সময়েই নিজের দক্ষতা গড়তে পারবেন। আমাদের অনলাইন কোর্সে রয়েছে লাইভ ক্লাস, প্র্যাকটিস সেশন এবং স্বচ্ছ ও বাস্তবমুখী শেখার সুযোগ।” এই লিখাটি মানুষের আবেগে নাড়া দেবে। কারণ এই লেখাটি পাঠকের মনের “কেন?” প্রশ্নটার উত্তর দিয়েছে। পাঠকের সমস্যার কথা বলেছে, সমাধান দিয়েছে এবং মূল্য তৈরি করেছে।
বাংলা কন্টেন্ট রাইটিং ওয়েবসাইট
পূর্বে ইংরেজি ভাষায় এই ডিজিটাল রাইটিয়ের প্রবণতা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সকল ভাষাতেই এর চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। তেমনি বাংলা ভাষায় মানসম্মত কন্টেন্টের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সংবাদ, শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, ই-কমার্স, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার এবং লাইফস্টাইলসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন নিয়মিত বাংলা কন্টেন্ট প্রকাশিত হচ্ছে। তাই আপনি যদি বাংলা ভাষায় লেখালেখি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাহলে এই দক্ষতাকে পেশায় রূপ দেওয়ার জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রতিদিন হাজার হাজার শব্দের নতুন কন্টেন্ট প্রকাশ করে। এখানে সংবাদ প্রতিবেদন, ফিচার, মতামত, লাইফস্টাইল, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা এবং বিনোদন বিষয়ক কন্টেন্ট রাইটারের চাহিদা থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠান ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম বা চুক্তিভিত্তিক লেখক নিয়োগ করে। যেমন: প্রথম আলো, বাংলা ট্রাইবুন, ঢাকা পোস্ট, জাগো নিউজ ২৪, বিডি নিউজ ২৪, সময় নিউজ ইত্যাদি।
প্রযুক্তি নিয়ে লেখালেখির আগ্রহ থাকলে বিভিন্ন টেক ব্লগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মে স্মার্টফোন, সফট্ওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, গ্যাজেট রিভিউ এবং প্রযুক্তি টিউটোরিয়াল প্রকাশ করা হয়। যেমন: টেকটিউন্স (Techtunes), ট্রিক বিডি (TrickBD), বিজ্ঞানী.ওআরজি (Biggani.org) ইত্যাদি।
অনলাইন জগতে শিক্ষা ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে শিক্ষা-সংক্রান্ত কন্টেন্টের চাহিদাও বেড়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়তই নতুন কোর্সের বিবরণ, ব্লগ, ক্যারিয়ার গাইড, পরীক্ষার প্রস্তুতি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং মোটিভেশনাল কন্টেন্ট লেখা হয়। দিন দিন এগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন বাংলা ডিজিটাল রাইটার হিসেবে আপনি এগুলো ই-লারনিং ওয়েবসাইটে প্রয়োগ করতে পারবেন। যেমন: টেন মিনিট স্কুল (10 Minute School), শিখো (Shikho), বহুব্রীহি (Bohubrihi), মুক্তপথ (Muktopaath) ইত্যাদি।
অনলাইন শপিংয়ের প্রসারের কারণে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত প্রোডাক্ট বিবরণ, ক্যাটাগরি কন্টেন্ট, এস.ই.ও ব্লগ এবং ক্রেতা সহায়ক গাইড প্রকাশ করে। এসব লেখার মূল লক্ষ্য হলো পণ্যের তথ্য সহজভাবে উপস্থাপন করা এবং ক্রেতার কেনার সিদ্ধান্তে সহায়তা করা। যেমন: দারাজ বাংলাদেশ (Daraz Bangladesh), পিকাবু (Pickaboo), রকমারি (Rokomari), আজকের ডিল (AjkerDeal) ইত্যাদি।
বাংলাদেশের অনেক ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের জন্য বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় কন্টেন্ট তৈরি করে। এখানে এস.ই.ও ব্লগ, ওয়েবসাইট কন্টেন্ট, ল্যান্ডিং পেজ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ইমেইল কপি এবং বিভিন্ন মার্কেটিং কন্টেন্ট লেখার সুযোগ থাকে।
আপনি চাইলে নিজের একটি ব্লগ তৈরি করেও লেখালেখি শুরু করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress), ব্লগার.কম (Blogger.com) বা মিডিয়াম (Medium) এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিয়মিত মানসম্মত কন্টেন্ট প্রকাশ করলে একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি হয়। পরবর্তীতে চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সময় এই পোর্টফোলিও আপনার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
ফ্রিল্যান্সিং কন্টেন্ট রাইটিং
বাংলা কন্টেন্ট রাইটিংয়ের কাজ শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মেও বাংলা ভাষার কন্টেন্ট রাইটারদের জন্য কাজ পাওয়া যায়। এছাড়া অনেক ক্লায়েন্ট ফেইসবুকে, লিংকড ইন এবং অন্যান্য পেশাদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও সরাসরি লেখক নিয়োগ করে। জনপ্রিয় কিছু মার্কেটপ্লেস: আপওয়ার্ক (Upwork), ফিভার (Fiverr), ফ্রিল্যান্সার (Freelancer.com), পিপল পার আওয়ার (PeoplePerHour) ইত্যাদি।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যক্তি, স্টার্টআপ এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠান নিয়মিত দক্ষ ডিজিটাল রাইটার খুঁজছে। ফলে আপনি চাইলে বাড়িতে বসেই দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করে আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং এ ডিজিটাল রাইটার হিসেবে আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মচারী না হয়ে চুক্তিভিত্তিক বা প্রজেক্ট ভিত্তিকভাবে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন। এমনকি একাধিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং নিজের সুবিধামতো সময় ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারেন।
আপনি ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস এবং সরাসরি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের লেখার কাজ পাবেন। যেমন:
- এস.ই.ও (SEO) ফ্রেন্ডলি ব্লগ ও আর্টিকেল লেখা।
- ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট তৈরি করা।
- প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন তৈরি করা।
- সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও ক্যাপশন তৈরি করা।
- ইমেইল নিউজলেটার তৈরি করা।
- প্রেস রিলিজের কাজ।
- ল্যান্ডিং পেজ কপি।
- স্ক্রিপ্ট রাইটিং।
- টেকনিক্যাল ও বিজনেস কন্টেন্ট তৈরি করা।
নিজের আগ্রহ ও দক্ষতার ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট ধরন নির্বাচন করলে ভালো মানের কাজ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্লায়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
কিন্তু আপনি যদি ভাবেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরুতে বড় আয়ের ব্যবস্থা করতে পারবেন, তাহলে এমন ভ্রান্ত ধারণা দূর করুন। এত কম সময়ে সেই ধাপে উঠা সম্ভব না। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। বরং আপনি নিজের দক্ষতা উন্নয়নের দিকে বেশি মনোযোগ দিন। রাইটিং এর অভ্যাস ও সময়টাই একদিন আপনার কাছে সফলতা এনে দেবে। আপনি নিয়মিত পড়ুন, প্রতিদিন লেখার অনুশীলন করুন এবং সফল কন্টেন্ট রাইটারদের কাজ বিশ্লেষণ করুন। প্রতিটি প্রজেক্টকে গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো মানসম্মত কাজ জমা দিন। ধৈর্য্য, পেশাদারিত্ব এবং ধারাবাহিক অনুশীলনই একজন নতুন ফ্রিল্যান্স কন্টেন্ট রাইটারকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করে তোলে।
কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়
আপনি চিন্তিত হতে পারেন, কন্টেন্ট আবার নিজে নিজে কীভাবে লিখে! এটি শিখতে হলে নিশ্চয়ই কোনো কোর্স শেখা লাগে। না ভাই, এটি শেখার জন্য কোনো ডিগ্রি দরকার নেই। নিয়মিত অনুশীলন এবং শেখার ইচ্ছা থাকলে যে কেউই এটায় মাস্টার হতে পারে। আরো থাকা লাগে ধৈর্য্য ও আবেগ। আপনার যদি লেখার মতো ধৈর্য্য না থাকে তাহলে আপনি পাঠকের জন্য ভালো কিছু বানাতে পারবেন না। আর আপনার লেখায় আবেগ না থাকলে পাঠক পড়ে মন থেকে অনুভব করতে পারবে না। আপনার যদি এক চিমটি ইচ্ছাও থাকে মনে ডিজিটাল রাইটার হওয়ার, তাহলে নিয়মিত পড়ুন। প্রতিদিন বিভিন্ন ব্লগ, সংবাদ, বই, বুকলেট এবং আর্টিকেল পড়ুন। প্রতিদিন লিখা লিখির অভ্যাস করুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট লেখার অভ্যাস করুন। গবেষণা করতে শিখুন। বিশ্বাস করুন আপনি যত একটা বিষয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন ততই আপনা জ্ঞানের ভাণ্ডার উন্মোচন হবে। একটি বিষয় নিয়ে একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন। এস.ই.ও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) শিখুন। কীওয়ার্ড রিসার্চ, হেডিং স্ট্রাকচার এবং অন পেজ এস.ই.ও সম্পর্কে ধারণা নিন।
এই ডিজিটাল রাইটিং এর সবচেয়ে বড় গেইম চেঞ্জিং একটি বিষয় হলো পাঠকের চাহিদা বুঝা। আপনার পাঠক আপনার লিখা থেকে কী কী আশা করতে পারে, সেটা আপনাকে বুঝতে হবে। এখন ভাবুন একটি বই বিক্রির ওয়েবসাইটে প্রতিটি বইয়ের দাম আছে। ক্রেতা বইয়ের দাম দেখেই যদি হতাশ হয়ে যায় তাহলে তো সে বইটি কিনতে চাইবে না। এখন আপনি যদি আপনার লিখার মাধ্যমে বইটির উপকারিতা জানান, বইটি কেনার স্বার্থকতা বোঝান, তাহলেই ক্রেতা বুঝতে পারবে কেন বইটি কিনা জরুরি। তাহলে ক্রেতার চাহিদা বুঝতে শিখুন। রিসার্চ করুন। আপনি একজন পাঠক হিসেবে একজন লেখকের থেকে কী কী চান, ভাবুন ও সেটি অনুশীলন করুন। অন্যদের থেকে ফিডব্যাক নিন। আপনার লেখা অন্যদের পড়তে দিন এবং তাদের সৎ মতামত গ্রহণ করুন। নিজে থেকে ব্লগ শুরু করুন। নিজের লেখা মানুষের সামনে প্রকাশ করুন। মানুষ আপনার লেখা পড়ে কী ভাববে এগুলো মাথায় নেবেন না। আপনার প্রতিটা প্রকাশিত ব্লগে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং একটি করে পোর্টফোলিও তৈরি হবে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল প্লাটফর্মে ইন্টার্নশিপ
ডিজিটাল রাইটিং শেখার ক্ষেত্রে শুধু অনলাইন টিউটোরিয়াল বা ব্লগ পড়াই যথেষ্ট নয়। বাস্তবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এমন একজন লেখকের তত্ত্বাবধায়নে শিখলে দক্ষতা আরও দ্রুত বাড়ে। বিশেষ করে আপনি এই রাইটিং দক্ষতাকে যদি ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান, তাহলে আপনার জন্য একটি ভালো ইন্টার্নশিপ খুব কার্যকর হবে। এটি শেখার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের অন্যতম সুযোগ হয়ে উঠবে।
এই ধরনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আপনি শুধু লেখালিখি নয়, বরং কীভাবে একটি নির্দিষ্ট অডিয়েন্সের দৃষ্টিকোণকে মাথায় রেখে কন্টেন্ট তৈরি করতে হয়, কীভাবে একটি আকর্ষণীয় হুক ও মূল্য তৈরি করতে হয়, কীভাবে সোশাল মিডিয়া ক্যাপশন লিখতে হয় এবং কীভাবে একটি ব্র্যান্ডের সামঞ্জস্য ও সংগতি বজায় রাখতে হয় এসব বিষয় হাতে-কলমে শিখতে পারেন।
বাংলাদেশে অনেক ইয়ুথ অর্গানাইজেশন আছে যেগুলোতে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কিত বিষয়ে ইন্টার্নশিপ অফার করা হয়। Let’s Spark BD তেমনি একটি অর্গানাইজেশন। আপনি যদি এই দক্ষতায় ক্যারিয়ার শুরু করতে চান, তাহলে Let’s Spark BD এর Content Writing Internship আপনার জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে। এখানে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাস্তব কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নিজের লেখার দক্ষতা, রিসার্চ এবং ক্রিয়েটিভ চিন্তাধারা উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
একজন ইন্টার্ন হিসেবে আপনি Let’s Spark BD তে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট সম্পর্কিত বিষয়ের সাথে পরিচিত হতে পারবেন। যেমন:
- প্রুফ রিডিং (Proofreading)
- ব্লগ ও আর্টিকেল রাইটিং (Blog ও Article Writings)
- সোশাল মিডিয়া ক্যাপশন (Social Media Caption)
- মার্কেটিং কন্টেন্ট (Marketing Content)
- প্রোমোশনাল কন্টেন্ট (Promotional Content)
- এডুকেশনাল কন্টেন্ট (Educational Content)
- ব্রান্ড কমিউনিকেশন (Brand Communication)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, ইন্টার্নশিপের সময় তৈরি করা কাজগুলো ভবিষ্যতে আপনার ডিজিটাল রাইটিং এর পোর্টফোলিও তৈরিতেও কাজে লাগতে পারেন। একজন নতুন কন্টেন্ট রাইটারের জন্য পোর্টফোলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সম্ভাব্য ক্লাইন্টকে আপনার লেখার দক্ষতার বাস্তব উদাহরণ দেখাতে সাহায্য করবে। আপনি যদি, এই দক্ষতা শিখতে আগ্রহী হন এবং তা নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে Let’s Spark BD এর Content Writing Internship আপনার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
Written by,
Iffat Tasnim
Content Writing Intern
Let’s Spark BD
Find me on LinkedIn
Informative.